রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:০৪ পূর্বাহ্ন

মাথা কাটার গুজবে সাড়া না দেয়ার কথা বললেন পুলিশ সুপার

মাথা কাটার গুজবে সাড়া না দেয়ার কথা বললেন পুলিশ সুপার

জনপ্রিয় ডেস্কঃ

নেত্রকোনায় শিশু সজিবের মাথা কাটা নিয়ে সংবাদ সম্মেলণ করেছে জেলা পুলিশ সুপার। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় পুলিশ সুপার সম্মেলণ কক্ষে এই  সংবাদ সম্মেলণ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী বলেন, হত্যাকারী রবিন মিয়া নেত্রকোণা পৌর শহরের কাটলী এলাকার জনৈক কায়কোবাদের নির্মাণাধীন ভবনের ৩য় তলায় পূর্ব পাশে টয়লেটে শিশু সজিবকে নৃশংসআবে হত্যা করে।শিশু সজিবের হত্যাকারী রবিন নেত্রকোনা পৌরসভার নিউটাউন অনন্ত পুকুরপাড় তারেক মিয়ার বাসার গেটের সামনে গেলে স্থানীয় লোকজন তার গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। এতে রবিন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। সে মাদকাসক্ত ছিল। তার বাড়ী পৌর শহরের কাটলী এলাকার একলাছ মিয়ার ছেলে। পেশায় রিক্সা চালক ছিল রবিন। এরপর পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কায়কোবাদের নির্মাণাধীন ৩য় তলা বাসা থেকে সজিবের মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করে। বিষয়টি সজিবের পিতা নিশ্চিত করে। সজিবের বাড়ী পৌর শহরের কাটলী এলাকায়।

তিনি আরো জানান,  ধারনা করা হচ্ছে মনের পুরনো কোন জেদ বা বিকৃত মানসিকতা থেকেই সজিবের সাথে নির্মম ও বর্বরোচিত এই ঘটনা ঘটেছে। পাবিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। এটি শুধুই কটি হত্যাকান্ড। এর সাথে ছেলে ধরা বা পদ্মা সেতু গুজবের কোন সম্পর্ক নেই। এই ঘটনায় নেত্রকোনা মডেল থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সজিব হত্যাকান্ডের মামলা নং-১৯, তারিখ-১৮.০৭.১৯ইং, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ দন্ডবিধি এবং গণপিটুনিতে রবিন হত্যাকান্ডের মামলা নং-২০, তারিখ-১৮.০৭.১৯ইং, ধারা-৩০২ দন্ডবিধি। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত র‍য়েছে বলেও জানান তিনি।



পুলিশ সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অপরিচিত হলেই সন্দেহ করে কাউকে মারপিট করা যাবেনা। এ ধরণের ভুল সিদ্ধান্তে নিজেও অপরাধী হয়ে যেতে পারেন। এতে যে কাউকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। এলাকা, পাড়া বা মহল্লায় অরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে সন্দেহের সৃস্টি হলে আগে তার সাথে কথা বলুন এবং তার পরিচয় সমর্কে শতভাগ নিশ্চিত হোন। তারপর কোথাও কোন সমস্যা মনে হলে পুলিশকে সংবাদ দিন।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেলে ধরা নিয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই।রবিন ছিল ঐ শিশুর প্রতিবেশি এবং এলাকার চিহ্নিত মাদকাসক্ত যুবক। সে মারা না গেলে তার মিখ থেকে দেশবাসী সকলেই প্রকৃত ঘটনা জানত। আইন কারো হাতে তুলে নেয়ার সুযোগ নেই। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তদন্তাধীন বিষয়ে মনগড়া ও অসত্য তথ্য দিয়ে প্রচার প্রচারনা চালানো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ। সবাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।’

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান মিয়া, মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তাজুল ইসলাম, প্রেসক্লাব সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান রঞ্জন, কার্যকরী কমিটির সদস্য হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রেসক্লাব সম্পাদক শ্যামলেন্দু পালসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!