রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২০, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন

মাইন সরকার সম্পাদিত ‘সাইবিতা নিয়ে কথা’

জনপ্রিয় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
  • ২২ বার পঠিত

জুঁইফুল চৌধুরী

কবি সাইফুল্লাহ আল মামুনের ‘সাইবিতা’ কবিতার ওপর একটি আলোচনা মূলক গ্রন্থ ‘সাইবিতা নিয়ে কথা’। কবি ও গবেষক মাইন সরকারের সম্পাদনায় গ্রন্থটিতে লিখেন আশির কবি বদরুল হায়দার, কবি ও সম্পাদক ওবায়েদ আকাশ, মাইন সরকার, জালাল উদ্দীন এবং কামাল মুস্তাফা। এছাড়াও রয়েছে কবি সাইফুল্লাহ আল মামুনের বিশটি সাইবিতা। প্রচ্ছদ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় তরুণ প্রচ্ছদ শিল্পী চারু পিন্টু। গ্রন্থটি প্রকাশ করেন প্রকাশনা সংস্থা কবিতাচর্চা, অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০।

গ্রন্থে আছে ‘সাইবিতা’ হলো উদ্ধৃতিমূলক লেখা সাইবিতা সাহিত্যের এক নতুন ধারা উদ্ধৃতিমূলক কবিতা বা উৎসাহব্যঞ্জক কবিতা। এই ধারাটি সাহিত্যে একেবারেই নবীন। ঠিক যেনো ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর মতো। সাইবিতার মধ্য দিয়ে বিশ্বসাহিত্যে (Quotable poetry) বক্তৃতা বা কোনো দৃষ্টান্ত উপস্থাপনের জন্য স্বল্প বা কিছু বাক্য বা বাক্য সমষ্টির প্রয়োজন হয়। যা দিয়ে বক্তা বিষয়বস্তুকে আরো অর্থবহ করে তুলতে পারেন। সাইবিতা এমনই এক ধারার স্বল্প কথার কবিতা। বলা হয়েছে, সাইবিতা কবিতার কচিপাতা অথবা সাহিত্যের তরল বার্তা।

আমরা যদি কবির কিছু সাইবিতাকে বিশ্লেষণ করি। তার পুরো রূপটি আমাদের সম্মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠবে।

যেমন, সাইবিতা : হস্ত

অপরাধের সূত্রপাত এই দুটি হাত

মানবো না এই অজুহাত

শ্রেষ্ঠ– সৃষ্টির বিশ্বস্ত অস্ত্র হস্তজগতে মহৎ কর্মে রাখিব ব্যস্ত।

এই প্রেরণামূলক সাইবিতাটি অন্তর আত্মাকে উজ্জীবিত করে মহত্বের দিকে। মনের বাসনাকে দমিত করে। ঠিক তেমনি জগতের মহৎ কর্মে প্রতিটি মহৎ প্রাণকে অনুপ্রাণিত করে। পার্থিব জীবনের এই আকাঙ্ক্ষা পাওয়া না-পাওয়ার যে হাহাকার, ধ্বনির সমারোহে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে তার একটি সুন্দর উদাহরণ। মানুষ ইচ্ছে থাকলেও সব করতে পারে না, আর যখন করতে পারে তখন মনে জোর থাকে না। কালের এই যাত্রাতলে বিবিধ বসন্তের যে সমারোহ আসে, কোকিলের ডাক, ধ্বনির রঙ বদলায় শ্রোতার কানে। জীবন বড় বিচিত্র। কখনো পেয়ে খুশি, কখনো না পেয়ে খুশি। এই বিষয়ে কবিকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি তার সরল উক্তিতে বলেন-

সাহিত্যের ধ্বনি যখন আত্মার ধ্বনির সাথে মিশে যায় সেই অনুরণনে সব বদলে যায় সাহিত্য তেমনই একটি মহৎ কর্ম। সাইবিতাকে আমি যতোবার উপলব্ধি করার প্রয়োজন খুঁজেছি, ততবারই আমি সাইবিতার কাছে ছুটে গেছি।

যেমন, সাইবিতা : বাস্তবতা

যখন মুখে রুচি ছিল খাবার ছিল না

এখন খাবার আছে মুখে রুচি নেই।

যখন চোখে ঘুম ছিল ঘর ছিল না

এখন ঘর আছে চোখে ঘুম নেই।

একটা চাই অন্যটা হারাই

জীবন এক তাসের ঘরসব কিছুই আছে সব কিছুই পর!

উদ্ধৃতিটি প্রতিটি ব্যক্তি জীবনে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রয়োজন। প্রেমের ক্ষেত্রেও তাই। তাইতো সাইবিতার ধ্বনি শুনতে পাই,

তুমি জোনাকির মতো

চারিদিকে শুধুই আঁধার

তুমিই কেবল আলো।এই সাইবিতায় অত্যুক্তি ও ব্যক্তি প্রেম অপরূপে প্রকাশ পায়। অন্ধ দেহের আলোর মতো চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। অপরূপ সব সৃষ্টিকর্মের মাঝে কবি সাইবিতাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।

যেমন, আরেকটি সাইবিতা : আদিভূমি

সরল শরীরে মানব– ফসলি জমি সোনার চেয়ে দামি দুই ইঞ্চি ভূমি।

এই সাইবিতাটির মধ্যে অসাধারণ শব্দ চয়নে মানব ফসলি জমির কথা বলা হয়েছে”।

বাংলাদেশ জার্নাল

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102