শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

বশেমুরবিপ্রবি প্রতারক চক্রের ১৪ সদস্য আটক

বশেমুরবিপ্রবি প্রতারক চক্রের ১৪ সদস্য আটক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :

পরীক্ষার আগের দিন শুক্রবার রাতে ১১ টার দিকে পরীক্ষার্থী রাজুকে (ছদ্দ নাম) বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেবার জন্য তার বড় ভাই সজলের (ছদ্দ নাম) সাথে ফোনালাপে মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয় আটককৃত বিশ্ববিদ্যায়ের সিভিলি ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান।

চুক্তি অনুযায়ী রনিকে দিতে হবে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। দুই ঘন্টা আগে য়ে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সমাধান করিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন। আর এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি করিয়ে দেবার কথা বলে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিলেও হয়নি শেষ রক্ষা।

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক প্রথম বর্ষের “এ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অভিযান চালিয়ে ৫ শিক্ষার্থীসহ প্রতারক চক্রের ১৪ সদস্যকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন উপাচায্য প্রফেসর ড: মো: শাহজাহান।

আটককৃত ১৪ জনের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিলি ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রনি খান, একাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের নেয়ামুল, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের নয়ন এবং আইন বিভাগের অমিত গাইন এবং মানিক মজুমদার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচায্য ড: মো: শাহজাহান সংবাদ সম্মেলনে জানান, শনিবার বিকাল ৩টায় শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক প্রথম বর্ষের “এ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরের একটি চক্র প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় সহযোগীতা করার চেষ্টা করেছিল।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিজয় দিবস হলের ৫১২ নম্বর রুম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতারক চক্রের ১১ জন শিক্ষার্থী ও ৩ জন অভিভাবককে আটক করে। পরে রাতে আটককৃতদের গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলেও জানান তিনি। এ সংবাদ সম্মেলনে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড: এম এ সাত্তারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার আগের দিন গত শুক্রবার রাতে ১১ টার দিকে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেবার জন্য তার বড় ভাইয়ের সাথে ফোনালাপে মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয় আটককৃত বিশ্ববিদ্যায়ের সিভিলি ইনঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রনি খান। চুক্তিতে রনি সাড়ে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার দুই ঘন্টা আগে প্রশ্নের সমাধান করিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এসময় ওই শিক্ষার্থীর বড় ভাই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রনির সাথে সে দেখা করতে গেলে অভিযান চালায় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. এম এ সাত্তার বলেন, এই চক্রের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম এসেছে। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দোষী যেই হোক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!