শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৩:২৫ অপরাহ্ন

বর্ণবাদে দুষ্ট পুলিশি বাড়াবাড়িতে মার্কিনিরা ক্ষুব্ধ

জনপ্রিয় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ জুন, ২০২০
  • ৩৭ বার পঠিত
মানুষের গায়ের রং সাদা, কালো, বাদামি বা হলুদ যা-ই হোক না কেন, অধিকারের সমতার ঘাটতি অনেকটা ঐতিহাসিক।
মানুষের গায়ের রং সাদা, কালো, বাদামি বা হলুদ যা-ই হোক না কেন, অধিকারের সমতার ঘাটতি অনেকটা ঐতিহাসিক।

মানুষের গায়ের রং সাদা, কালো, বাদামি বা হলুদ যা-ই হোক না কেন, অধিকারের সমতার ঘাটতি অনেকটা ঐতিহাসিক। শ্বেতাঙ্গ বর্ণের মানুষ অন্য বর্ণের মানুষকে তাদের সমান ভাবতে না পারা থেকে বৈষম্যের জন্ম, যা সমাজের গভীরে প্রোথিত হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে জাতিগত বৈষম্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় আন্তরিক না হয়ে অসহিষ্ণু হয়ে সহিংস আচরণে জড়িয়ে পড়ছে। পৃথিবীর ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে বর্ণবাদকে ব্যবহার করা হয়েছে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে। উপনিবেশ প্রভুরা দরিদ্র দেশের মানুষকে শোষণ করেছে বিভিন্নভাবে। আফ্রিকার কালো মানুষদের ধরে নিয়ে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রি করেছে এবং তাদের বিনা মূল্যের শ্রম নিয়ে শ্বেতাঙ্গরা ভাগ্য গড়েছে। রাজতন্ত্র ভেঙে গণতন্ত্রের পথে হাঁটার সময় নতুন মূল্যবোধের জন্ম হয়। সব জাতিগোষ্ঠীর ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সমাধিকারের পাশাপাশি সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে রাজনীতি এগিয়ে আসে এবং রাষ্ট্র সংবিধান সংশোধন করে অথবা আইন করে সমাধিকার নিশ্চিত করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠদের আকৃষ্ট করতে সংখ্যালঘুদের অধিকারবঞ্চিত করার নতুন নিপীড়নমূলক রাজনীতির উন্মেষ ঘটে। অধুনাকালে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব ও আমেরিকা সবার আগে ইত্যাদি স্লোগান সমাজে নতুন করে ঘুণ ধরিয়েছে। জাতিগত বা বর্ণগত বৈষম্যকে বৃদ্ধি করেছে, সমান সুযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, বেড়েছে কালো-সাদার বৈষম্য। পুলিশের বর্ণবাদী আচরণ থামছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশি বর্বরতার পরিসংখ্যান খুব সুখকর নয় কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য। মানুষ ফুঁসে উঠে রাস্তায় নেমেছে।

মেনিয়াপোলিস শহরে জর্জ ফ্লয়েডের পুলিশের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধে ওঠা জনবিক্ষোভ মার্কিন মুলুকের সব রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। বর্ণবৈষম্য মার্কিন সমাজের কালো দিকটাকে আবার সুস্পষ্ট করেছে। মার্কিন সমাজের মূল্যবোধকে গলা টিপে ধরেছে পদ্ধতিগত বর্ণবাদ। আমেরিকান মূল্যবোধকে টিকিয়ে রাখতে যেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে তার জন্য চাই সমতা বা সমাধিকারের সমাজ, অদম্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তৈরি করতে হবে বর্ণ, ধর্ম ও সব জাতিসত্তার সমাধিকারের নতুন নিশ্চয়তা। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের লোভনীয় মুলা দেখিয়ে ভোট পাওয়ার কৌশল মূলত সমাজের সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করে এবং বিভাজিত করে সমাজের তন্তুকে। বিভাজিত আমেরিকা অতীতের চেয়ে দুর্বল হয়ে যাবে। মূল্যবোধের অবক্ষয় সাময়িকভাবে রাজনৈতিক বিজয় এনে দিলেও সুদূরপ্রসারী ফল ভালো হতে পারে না। উন্মুক্ত বিশ্বের ধারক হিসেবে আমেরিকার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলে সাদা-কালোর বিভাজন বা একে অপরের দ্বারা নিষ্পেষিত হলে সমাজে ঘুণ ধরবে, বাড়বে অসহিষ্ণুতা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা পৃথিবী যখন করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত তখন আমেরিকার বর্ণবাদের উপস্থিতি হতবাক করে বিশ্ববাসীকে।

আমেরিকার অতীত ইতিহাস বর্ণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সমুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত যেমন রয়েছে, শুরুতে তেমনি সংখ্যালঘু আদি জাতিসত্তা নিশ্চিহ্ন হয়েছে এবং কৃষ্ণাঙ্গের ক্রীতদাস বানিয়ে আমেরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যের জেমস্টাউনে ওলন্দাজ জাহাজে করে প্রথম নিয়ে আসা হয় ১৬১৯ সালে। দুই শতাব্দী ধরে ক্রীতদাস প্রথা চর্চিত হয়েছিল। ক্রিস্তোফার কলাম্বাস আমেরিকা মহদেশে পা রেখেছিলেন ১২ অক্টোবর ১৪৯২ সালে। তারপর ঘটে আদিবাসীদের উত্খাত। ঘটে যায় ইতিহাসের অবর্ণনীয় গণহত্যা। শুরু হয় সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব বিন্যাস। পরবর্তী সময়ে আমেরিকার উত্তরের রাজ্য আর দক্ষিণের রাজ্যগুলোর দ্বন্দ্ব্ব ও অসমপ্রবৃদ্ধি গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। উত্তরের রাজ্যগুলো মুক্ত শ্রমিকদের ব্যবহার করে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে এগিয়ে গেলেও দক্ষিণের রাজ্যগুলো তুলা চাষকে নির্ভর করে বেড়ে ওঠে এবং প্রায় ৪ মিলিয়ন কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাসের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে তুলা উত্পাদনের অর্থনীতি গড়ে তোলে। ক্রীতদাস প্রথা উচ্ছেদের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ছিল একেবারে উলটো। আব্রাহাম লিংকন ১৮৬০ সালে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করলে ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। দক্ষিণের সাতটি রাজ্য ক্রীতদাস প্রথা ধরে রাখার জন্য আলাদা রাষ্ট্র কনফেডারেট স্টেটস অব আমেরিকা নামে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে। ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত চলে গৃহযুদ্ধ। যুদ্ধে পরাজিত হলে কনফেডারেট রাষ্ট্রের পতন ঘটে নতুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।

ক্রীতদাস প্রথা বিলোপ করে ১৮৬৫ সালে সংবিধানের ১৩তম সংশোধনী জারি হয়। মুক্ত হয়ে যায় সব কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীতদাস। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গদের সম অধিকার প্রদানের বদলে ব্ল্যাক কোড নামে নতুন নির্যাতনমূলক বিধি তৈরি করে অধিকারবঞ্চিত করে দক্ষিণের রাজ্যগুলো। তখন অধিকার নিশ্চিত করতে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী পাশ হয় ১৮৬৮ সালে, যা সিভিল রাইটস নামে পরিচিত। সম অধিকারের নিশ্চয়তা সংবিধান দিলেও কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ছিল না বিধায় অনেক সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়ে উঠছিল না। ১৮৬৮ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে পুরুষদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হলেও মহিলাদের অধিকার পেতে ১৯তম সংশোধনী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। বর্ণবাদ নিরসন, সমাধিকার ও ন্যায়বিচার পেতে আমেরিকার জনগণের প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এখনো বর্ণ নিয়ে অসমতা কাটাতে আমেরিকা মনে হয় পেছন দিকে হাঁটতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রের নির্লিপ্ততায় পুলিশের ভেতরে শেকড় গেড়েছে বর্ণবাদের বিষবৃক্ষ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানাডার সীমান্তঘেঁষা রাজ্য মিনেসোটা রাজ্যে ৪৬ বছর বয়সি কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডকে আটক করতে গিয়ে মিনিয়াপোলিস শহরের পুলিশ অফিসার তার ঘাড়ের ওপর আট মিনিটের বেশি সময় হাঁটু গেড়ে থাকে; ফলে তার মৃত্যু ঘটে। শ্বেতাঙ্গ অফিসারকে পথচারীরা নিবৃত করার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্মমতার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হলে প্রতিবাদের ডাক দেয় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার নামের একটি অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট ফোরাম। মুহূর্তেই ফ্লয়েড হত্যার বিরুদ্ধে আমেরিকার ৫০টি রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ছবি দেখে মনে হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গদের গলায় এভাবেই চড়ে আছে শ্বেতাঙ্গ বর্বরতা। আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়ে বিক্ষোভ দানা বাঁধে ইউরোপে এবং সুদূর অস্ট্রেলিয়াতেও মানুষ ফুঁসে ওঠে।

একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি আচরণে বর্ণবাদের অস্তিত্ব রয়েছে বলে মনে করা হয় বলে পুলিশের বিরুদ্ধে জনমত তীব্র হয়ে পুলিশের অর্থায়ন বন্ধের দাবি ওঠে। অপরদিকে বর্ণবাদ সমাজের গভীরে শেকড় গেড়েছে বলে এর উত্পাটন শুধু আইন করে সম্ভব নয় বলে অনেকের বিশ্বাস। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের ঐতিহ্যকে গুঁড়িয়ে না দিতে পারলে বর্ণবাদ বারবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে। তাই ক্রীতদাস ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত নেতৃত্বের মূর্তি, ম্যুরাল, চিহ্ন সরিয়ে ফেলার দাবি উঠেছে যাতে নতুন প্রজন্ম নতুন মূল্যবোধ নিয়ে গড়ে উঠতে পারে। ক্রীতদাস প্রথার পক্ষে লড়াই করা দক্ষিণের কনফেডারেটস রাষ্ট্রের সব চিহ্ন সরিয়ে ফেলার জন্য দাবি জোরদার হয়। বিক্ষোভকারীরা অনেক শহরে ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে প্রদর্শিত মূর্তি ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেয় এবং অনেক শহরের মেয়ররা সরিয়ে ফেলে অথবা সরিয়ে ফেলার অঙ্গীকার করে। কনফেডারেটসের প্রেসিডেন্ট জেফারসনের মূর্তিও আক্রমণের শিকার হয়। দাবি ওঠে অন্তত চিহ্নিত ১০ কনফেডারেট জেনারেলের নামে মার্কিন সেনানিবাসের নাম পরিবর্তনের।

ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার সংগঠনটির জন্ম হয় ২০১৩ সালে কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর পুলিশি বর্বরতার প্রতিবাদ করতে। অচিরেই এই সংগঠনের বিস্তৃতি ঘটে বিশ্বব্যাপী। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জন্ম নেওয়া বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। পুলিশ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে বিক্ষোভ প্রশমিত করতে জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে হাঁটুতে বসে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফ্লয়েডের ওপর। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়ে গেছে। প্রতিবাদ রাস্তা থেকে এখন খেলার মাঠেও গড়িয়েছে। অনেকেই কনফেডারেটসের পতাকা নিষিদ্ধ করেছে। ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়রা তাদের জার্সিতে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার লেখা মাঠে প্রদর্শন করবে। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে মানুষ দৃশ্যমানভাবে খুব সোচ্চার, যার নজির আগে দেখা যায়নি এবং বিশ্বকে এত একত্রিত মনে হয়নি।

এ বছরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে এই বিক্ষোভকে কাজে লাগাতে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল কৌশল নিয়েছে। জো বাইডেন এ ঘটনাকে পদ্ধতিগত বর্ণবাদ বলে অভিহিত করে কংগ্রেসের জন্য পুলিশ সংস্কার বিল তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থায়ন বন্ধ করার বিরোধিতা করেছেন। চাপের মুখেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বকে ধরে রেখে এগোতে চাচ্ছেন। সেনানিবাসের নাম পরিবর্তনের দাবিকে উপেক্ষা করেছেন আমেরিকার ঐতিহ্য হিসেবে। এরই মধ্যে পুলিশ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে পুলিশের জন্য নরম নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, তাতে বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বিক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত হলে আটলান্টা শহরে আরেক কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করলে অসন্তোষ আবার ঘনীভূত হয়।

নিঃসন্দেহে ট্রাম্পের সংখ্যালঘু বা কৃষ্ণাঙ্গ ভোটে ভাটা পড়বে। তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্বেতাঙ্গ ভোটের দিকে তার দৃষ্টি তীক্ষ্ন রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবির কাছে নতি স্বীকার অনেক রক্ষণশীল শ্বেতাঙ্গদের মনঃপূত নয়। মিনিয়াপোলিসের পুলিশপ্রধান ফ্লয়েড হত্যায় বিক্ষোভকারীদের সামনে ক্ষমা চেয়ে পরে আবার তার বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভুল করেছেন বলে বার্তা দিয়েছে। এবারের বিক্ষোভের গতি-প্রকৃতি দেখে জো বাইডেন বলেছেন, পদ্ধতিগত বর্ণবাদ শুধু পুলিশ নয়, বাসস্থান থেকে শুরু করে সব সুবিধা থেকে দূর করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস থেকে এটা সুস্পষ্ট যে, কৃষ্ণাঙ্গরা অনেক পিছিয়ে আছে। করোনায় মৃত্যু শুধু নয়, সার্বিক স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে তাদের অংশ অনেক পিছিয়ে। একজন শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গ সমান আয় করলেও কৃষ্ণাঙ্গটি অনেক গরিব। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন অনেক দিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন অনেক রাজনৈতিক বিজ্ঞানী।

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে এবারের সোচ্চার আন্দোলন আমেরিকাতে নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটাবে। শ্বেতাঙ্গ ঐতিহ্যের চিহ্নগুলো বিলুপ্ত হবে। পুলিশের বর্ণবাদী ও প্রাণসংহারী কৌশল চর্চার অবসান হবে। পুলিশি কর্মকাণ্ডে সমাজের সম্পৃক্ততা বাড়বে। সহিংসতার পক্ষে কোনো রাজনীতি উসকানি না দিলেও বাম সংগঠন আন্টিফাকে (ANTIFA) দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার হ্যাস্ট্যাগ আরো বেগবান হবে। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এ আন্দোলন ব্যাপক প্রভাব ফেলবে ফলে উভয় প্রার্থী সতর্কতার সঙ্গে এগোবেন বলে অনুমিত হয়। তবে আমেরিকার মূল্যবোধের প্রতি তাদের জনগণ অনেক সচেতন।

লেখক :নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অব কনফ্লিক্ত, ল এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্লাডস)-এর নির্বাহী পরিচালক

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102