শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

পানি কমায় ভাঙ্গছে নদী, নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২০
  • ৫৭ বার পঠিত

উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারি বর্ষনে তিস্তার পানি টানা ৪দিন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও কমে গিয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি কমে যাওয়ায় তিস্তার বাম তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সোমবার(২৯ জুন) বিকেল ৩টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৫২ সেন্টিমিটার।

যা স্বাভাবিক (৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) চেয়ে ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার(২৫ জুন) মধ্যরাত থেকে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫/২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তিস্তার বাম তীরের লালমনিরহাটের ৫ টি উপজেলার প্রায় ১০ হাজার পরিবার টানা ৪ দিন পানিবন্দি হয়ে পড়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে টানা ২৪ ঘন্টা বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তা নদী। নিম্নাঞ্চলে বন্যার সৃষ্ঠি করে। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে।

এর রেশ কাটতে না কাটতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) উজানের ঢল ও ভারি বর্ষনের কারনে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে সকল জলকপাট খুলে দিয়ে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করছেন ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ। যা টানা ৪ দিন ধরে অব্যহত থাকে।

ফলে জেলার ৫টি উপজেলার ১৫ ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল থেকে কমতে শুরু করে তিস্তার পানি প্রবাহ। ফলে বন্যা পরিস্থতির উন্নতি ঘটে। পানি নামতে শুরু করলে পানিবন্দি থেকে মুক্তি পায় বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। পানি কমলেও দুর্ভোগ বেড়েছে বন্যাকবলিতদের।

টানা ৪ দিনের বন্যায় ডুবে থাকায় ঘর বাড়ি নষ্ট হয়েছে। নষ্ট হয়েছে আমন বীজতলা, বাদাম ও ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজি। বন্যায় নষ্ট হওয়া ঘর বাড়ি মেরামত করতে ব্যস্থ সময় পাড়ছেন তারা।

এদিকে তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা, আদিতমারীর কুটিরপাড়, চন্ডিমারী, দক্ষিন বালাপাড়া, কালীগঞ্জের শৈলমারী চর, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, সিন্দুর্না, ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গত দুই দিনে জেলার শতাধিক বসতবাড়ি তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েক শত ঘরবাড়ি, স্থাপনা ও ফসলি জমি। ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তাপাড়ের মানুষের।

এদিকে পানিবন্দি ও নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ বিতরন শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। পানিবন্দি প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চাল ও আলু এবং নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্থদের পুনবাসনের জন্য জনপ্রতি ২০ কেজি চাল ও ৭ হাজার টাকা বিতরন করা হয়।

হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজানের রহিম মিয়া ও আজিনুর রহমান বলেন, তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

রোববার রাতে তাদের বসতভিটা তিস্তা গর্ভে বিলিন হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের টিন খুলে নিয়ে রাস্তায় রেখেছেন। নতুন করে বাড়ির করার মত জায়গা না থাকায় রাস্তায় আশ্রয় হয়েছে তাদের।

তিস্তার তীরে বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে বাঁচতে তিস্তা খনন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মান করতে সরকারের ঊর্দ্ধমহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

লালমনিরহাট জেলা ত্রান ও পুনবাসন কর্মকর্তা আলী হায়দার বলেন, পানিবন্দি ৮ হাজার পরিবারের জন্য ৬৮.৬৬ মেঃটন জিআর চাল এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ২শত টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে।

যা ইতোমধ্যে বিতরন শুরু করা হয়েছে। নদী ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্থ ৪১ পরিবারকে জনপ্রতি ২০ কেজি চাল ও ঘর মেরামত বাবদ নগদ ৭ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভারি বর্ষন ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃহস্পতিবার(২৫ জুন) রাত থেকে বাড়তে থাকে।

শুক্রবার(২৬ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে লালমনিরহাটে বন্যা দেখা দেয়।

টানা ৪দিন পরে সোমবার(২৯ জুন) সকাল থেকে পানি প্রবাহ কমতে শুরু করে বিকেল ৩ টায় বিপদসীমার ৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে।

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102