রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

পানির অভাবে পাট পঁচানো ও দাম নিয়ে বিপাকে কৃষক

পানির অভাবে পাট পঁচানো ও দাম নিয়ে বিপাকে কৃষক

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : 

সোনালী আঁশ পাটকে বিবেচনা করা হয় দেশের প্রধান অর্থকারী ফসল হিসেবে। কিন্তু এ বছর গোপালগঞ্জে পাটের ফলন ভাল হলেও খাল-বিলে পানি না থাকায় পাট ঠিকভাবে পঁচাতে পারছেন না কৃষকরা। এক পানিতে বার বার পাট পঁচানোর ফলে পাটের আশঁ ভাল না হওয়ায় ও কালো রং ধারন করায় দাম নিয়ে আশংকায় রয়েছেন কৃষকেরা।

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে জানাগেছে, এ বছর গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় সাড়ে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছিল। আর এ সোনালি আঁশ পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। এ বছর গোপালগঞ্জে পাটের ফলন ভালো হলে শেষ সময়ে দেখা দিয়েছে অনাবৃষ্টি। ফলে পাট গাছ বড় হলেও পানির অভাবে গাছ পূড়ে যাওয়ায় অপরিপক্ক পাট কেটে ফলতে হচ্ছে কৃষকদের।

সেই সাথে বৃষ্টি অভাবে খাল-বিল, ডোবা, নালায় পানি না থাকায় চাষীরা তাদের উৎপাদিত পাট পঁচাতে পারছেন না। অল্প পানিতে অধিক পাট পঁচানোর ফলে আঁশ কালো রং ধারন করেছে। ফলে বাজারে আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না তারা। যে কারনে লোকসানের মুখে রয়েছে জেলার কয়েক হাজার পাট চাষী।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোষেরচর এলাকার পাটচাষী আক্কাস আলি, কালাচাদ বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলি এলাকার পাটচাষী রহমান শেখ ও হবিবর মোল্ল্য জানান, অল্প পানিতে অধিক পাট পঁচানোর ফলে আঁশ কালো রং ধারন করছে। ফলে বাজারে আশানুরুপ দাম পাচ্ছেন না তারা। যে কারনে লোকসানের মুখে রয়েছে জেলার হাজার হাজার পাট চাষী।

আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন, মো: হান্নান শেখ বলেন, এবছর পাটের আবাদ ভাল হলেও পানির অভাবে পাট পচাতে পারেছেন না কৃষকরা। অল্প পানিতে বারবার পাট পচানোয় আশেঁর রং কালো হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১৫’শ থেকে ১৯’শ টাকায় প্রতি মন বিক্রি হলেও পাটের আঁশ ভালো না হওয়ায় ও কালো রং ধারন করায় পাটের দাম কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের, উপ-পরিচালক, রমেশ চন্দ্র ব্রহ্ম বলেছেন, বর্ষার পানি না হওয়ার কারনে পাট ঠিকভাবে পঁচাতে না পারায় পাটের আঁশ খারাপ হওয়ায় ও কালো রং ধারন করায় কৃষকরা চাহিদামত দাম পাচ্ছেন না।

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!