শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন

পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা

পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন কৃষকরা

আটপাড়া প্রতিনিধিঃ

দেশি জাতের পাট বীজ না পাওয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও পাট চাষের উৎপাদন খরচ না উঠাসহ বিভিন্ন কারণে সোনালী আঁশ পাট চাষ থেকে দিন দিন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আটপাড়ার কৃষকরা।

পাট আবাদের সময় প্রথম দিকে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পরে সময় মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র মতে দেশী ৩০, কেনাফ ৭৮৫, মেস্তা ০৫, সর্বমোট ৮২০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে পাটের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। তাই লোকসানের ভয়ে দিন দিন পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন আটপাড়ার কৃষকরা।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কৃষকদের পাট চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য নানা কর্মসূচী হাতে নিচ্ছে সরকার। পাট চাষে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে নানা ভাবে কাজ করছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।

উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের সুমন মিয়া জানান, গত কয়েক বছর ধরে পাট চাষে লোকসান গুনতে হয়েছে কৃষকদের। তাই অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন পাট চাষ থেকে। বিঘা প্রতি জমিতে পাট আবাদে ১০/১১ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি হয় আট থেকে নয় হাজার টাকা। ফলে দিন দিন কমছে পাটের চাষ।

পাট চাষিরা বলেন, দেশি জাতের বীজ না পাওয়ায় বেশি দামে বিদেশী বীজ কিনতে হয়। অনেক সময় নিম্নমানের বীজের কারণে ফলন ভালো হয় না। প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচের চেয়ে বিক্রি হয় কম। কৃষককে তিন থেকে চার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়। তাই দিন দিন পাট চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় নতুন পাট বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি বেশি হলে পাটের দাম কমতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে। এত লোকসানে পড়বেন পাট চাষিরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মাসুদুর রহমান জানান, উৎপাদন খরচের চেয়ে বাজার মূল্য অনেক কম থাকায় কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!