শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর

জনপ্রিয় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২০
  • ৪৭ বার পঠিত
না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর
না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্লে-ব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর

শেষ পর্যন্ত ‘দয়ালের ডাকে’ চলেই গেলেন বাংলাদেশের গানের ইতিহাসে জনপ্রিয়তম শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। অথচ ‘জীবনের গল্প’ এখনই শেষ করতে চাননি তিনি। চেয়েছিলেন ফিরে আসবেন আবার সুর ও গানের এই মোহনীয় জগতে। কিছুদিন আগে হুইলচেয়ারে চেপে মঞ্চে উঠে এই ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ গেয়েছিলেন ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’। মরণব্যাধি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ ১০ মাসের সেই লড়াই শেষে ফিরে এসেছিলেন দেশে। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো না। চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

তার বোনের স্বামী প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস জানান, দুপুরে (সোমবার) এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বাড়ির পাশে মেটারনিটি সেন্টার নামে ক্লিনিকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়। সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মরদেহ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের এই সময়ে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে না। তার ছেলেমেয়ে দুজনেই অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন। তারা দেশে ফিরলে এন্ড্রু কিশোরের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী রাজশাহীতেই মায়ের সমাধির পাশেই তাকে সমাহিত করা হবে। এন্ড্রু কিশোর ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ নামে পরিচিত। তার চিরসবুজ কণ্ঠ অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছে। বর্ণিল জীবনকে স্মৃতির ক্যানভাসে জড়িয়ে রেখে চলে গেলেন বাংলা গানের কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু, মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা ও ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তককে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া শোক জানিয়ে বাণী দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টি-জাপা চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের এমপি, রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।

টানা নয় মাস সিঙ্গাপুরে ক্যানসারে চিকিত্সাধীন থেকে গত ১১ জুন একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছিলেন এন্ড্রু কিশোর। তারপর এ কয়টা দিন রাজশাহীতে বসবাস করেছেন। ছিলেন রাজশাহীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডা. শিখা বিশ্বাস ও দুলাভাই ডা. প্যাট্রিক বিপুলের বাসায়, তাদের তত্ত্বাবধানে। এখানে ধীরে ধীরে শারীরিক অবস্থা তার খারাপের দিকে গড়ায়। তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রুর ফেসবুকে এন্ড্রু কিশোরের শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে লিখেছিলেন, ‘এখন কিশোর কোনো কথা বলে না। চুপচাপ চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। আমি বলি, কী ভাবো? বলে, কিছু না। পুরোনো কথা মনে পড়ে আর ঈশ্বরকে বলি, আমাকে তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, বেশি কষ্ট দিয়ো না’।

এর আগে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিত্সার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন এই নন্দিত গায়ক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার জন্য ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর তার শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক লিম সুন থাইয়ের অধীনে ছিলেন তিনি। চলে টানা কয়েক মাসের কেমোথেরাপি।

এন্ড্রু কিশোর বাংলা গানে অসংখ্য জনপ্রিয় গানের শিল্পী। গান গেয়ে দেশ-বিদেশে সুনামের পাশাপাশি তিনি সম্মানও পেয়েছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদানের জন্য তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন পাঁচবার। তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেও গো মাটি, আমার বুকের মধ্যে খানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায়, এক চোর যায় চলে, পড়ে না চোখের পলক, পদ্মপাতার পানি, ওগো বিদেশিনী, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, আমি চিরকাল প্রেমের কাঙ্গাল, চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা, বেদের মেয়ে জোসনা আমায় কথা দিয়েছে, তুমি আমার জীবন আমি তোমার জীবন, ভালো আছি ভালো থেকো, তুমি আমার কত চেনা, তুমি মোর জীবনের ভাবনা, তোমায় দেখলে মনে হয়, এইখানে দুজনে নিরজনে প্রভৃতি।

১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক-যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। সেখানে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানে কণ্ঠ দেন। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে ১৯৭৯ সালে এ জে মিন্টু পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে এ মন চুরি করে’ গাওয়া গান প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে। বাংলাদেশের কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর জন্ম ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে। রাজশাহী শহরেই কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় তাকে টেনে আনে রাজধানী ঢাকায়। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।(ittefaq)

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ




© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102