বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জনপ্রিয় ডেস্কঃ

চাকুরী স্থায়ীকরনের দাবীতে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন গ্রামিণ ব্যাংক চতুর্থ শ্রেণী তিন হাজার এর বেশী কর্মীর শ্রম অধিকার রক্ষা ফোরাম ঢাকা-এর সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমান রিপন। তিনি তার লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন,-

“আমরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংক-এর বিভিন্ন শাখায় অফিসে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন কাম গার্ড হিসেবে কর্মরত তিন হাজার এর অধিক কর্মী দীর্ঘ দিন যাবৎ গ্রামীণ ব্যাংকে চাকুরী করলেও অদ্যাবধি আমাদের চাকুরী স্থায়ী করা হয়নি এবং কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। ৯ মাস চাকুরীর পর চাকুরী স্থায়ী করার কথা নিয়োগ বিধিতে বলা থাকলেও আমাদের ক্ষেত্রে এই বিধান মানা হচ্ছে না। উপরোন্ত, আমরা গ্রামীণ ব্যাংক কর্মমর্তাদের দ্বারা ক্রমাগত প্রতারণা ও হয়রানী, কারণ ছাড়াই কাজে যোগদানে বাধা প্রদান, বিনা বিশ্রামে দিন-রাত ২৪ ঘন্টা কাজ করাসহ নানা ধরণের অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছি।

আমাদের দাবীসমুহঃ-
১। অনতিবিলম্বে গ্রামীণ ব্যাংক এর বিভিন্ন শাখা অফিসে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন কাম গার্ড হিসাবে কর্মরত সকল কর্মীকে গ্রামীণ ব্যাংক এর নিয়োগ বিধি অনুযায়ী চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে।

২। গ্রামীণ ব্যাংক এর চাকুরী বিধি অনুযায়ী ঈদ উল-ফিতর ও ঈদ উল-আযহার  বোনাসসহ উৎসাহ ও অভিনন্দন বোনাস বৈশাখী ভাতা প্রদান করতে হবে।

৩। প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ও গ্রাচুইটিসহ সামাজিক নিরাপত্তার যাবতীয় সুবিধা প্রদান করতে হবে ।

৪। যেসব কর্মীকে অনৈতিকভাবে চাকুরীতে যোগদানে বাধা প্রধান করা হয়েছে তাদেরও উপরোক্ত ক্ষতিপূরণ প্রধান করে চাকুরীতে স্থায়ীকরণ করতে হবে।

৫। বাংলাদেশের শ্রম আইন অনুযায়ী বেতন ভাতা কর্মঘন্টা, সাপ্তাহিক ছুটিসহ যাবতীয় সুবিধাদি প্রধান করতে হবে।

৬। গ্রামীণ ব্যাংক-এর দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন কাম গার্ড পদের নিয়োগ বিধিতে উল্লেখিত ৯ মাস কর্মরত থাকার পর হতে স্থায়ী কর্মী হিসেবে গণ্য করে যথোপযোক্ত বকেয়া বেতন-ভাতাদি প্রধান করতে হবে।

দিনে অফিসে কাজ এবং অফিস ঝাড়ু দেওয়াসহ রাতে অফিস পাহারাদারের দায়িত্বসহ গ্রামীণ ব্যাংকের আমার ও আমাদের উপর গ্রামীণ ব্যাংকের দৈনিক ভিত্তিক নীতিমালার অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ পালন করার সত্বেও আমি আমরা দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। ঈদে উৎসবে আমাদের সর্বনিন্ম মজুরী সমান বোনাসটুকুও দেওয়া হয় না। নেই কোন ছুটি , নেই কোন কর্ম ঘন্টা , নেই কোন ভাতা কাজ করতে হয় ২৪ ঘন্টা।

পিয়ন কাম গার্ড স্থায়ী লোক এখনও ব্যাংকে চাকুরীরত আছেন। ৪র্থ শ্রেণির ( ২০গ্রেড) বেতন ভাতা পাচ্ছে। স্থায়ী পিয়ন কাম গার্ডের যে দায়িত্ব গ্রামীণ ব্যাংকের পরিভাষায় আমরা দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোকের একই কাজ ( একই শ্রম ঘাম দিচ্ছি) । গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের উপর মানবিক আচারণ করছে না। আমাদেরকে কাজ করানো হচ্ছে স্থায়ী পিয়ন কাম গার্ডের কাজ, কিন্তু মজুরী দিচ্ছে অস্থায়ী দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোকের । (৮ ঘন্টা ) কাজের মজুরী দিয়ে (২৪ ঘন্টা) কাজ করাচ্ছে। আমরা গ্রামীণ ব্যাংকের ২০নং গ্রেডের কর্মচারী, অস্থায়ী দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোকের দিন রাত পরিশ্রম করার জন্যই গ্রামীণ ব্যাংক শত শত কোটি টাকা লাভ করেছে এই প্রতিষ্টান থেকে সরকার ২৫% শেয়ারের প্রতিবছরের লাভ বুঝে নিচ্ছে ।

কিন্তু আমাদের চতুর্থ শ্রেণির তিন হাজারের বেশি কর্মীর ১০,১৫,২০ বছর চাকুরী করে আসলেও গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করছে না । ঈদে স্থীরকৃত বোনাস ও বেতন না পাওয়ায় গ্রামীণ ব্যাংকের এ ধরণের আচরণে আমাদের ভবিষ্যৎ ও আমাদের পরিবার পরিজনের জীবন ধারণের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেছে। বর্তমানে এই অনিশ্চয়তায় আমারা গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ৪র্থ শ্রেণী তিন হাজারের ও বেশি কর্মী পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছি।

তারপরও আমাদেরকে কন্ঠরোধ করে চলেছে। সত্য প্রকাশে বাধা দিচ্ছে কর্মকর্তারা। তিন হাজার এর ও বেশি অস্থায়ী কর্মচারীদের মধ্যযুগীয় কায়দায় ডিজিটাল দাস প্রথা নিয়মে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা করে আসছেন। আমরা এটাকে ডিজিটাল দাস প্রথাই বলব, কারন বাংলাদেশের ৬৮ টি ব্যাংকের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যতীত অন্য কোন প্রতিষ্টান বা বিশ্বে আর কোন দেশে ২৪ ঘন্টা কাজ, শ্রম অধিকার বঞ্চিত করে কোন নিয়ম চালু আছে বলে আমার জানা নেই। ড.মুহাম্মদ ইউনূস স্যারের চাকুরীর বয়স নেই, কিন্তু ১১ বছর অবৈধ চাকুরী করেও শতভাগ বেতন ভাতা নিয়েছেন । আমরা শ্রম দিচ্ছি, পারিশ্রমিক দিচ্ছে না গ্রামীণ ব্যাংক ।

গরীবের ব্যাংক বলে ডা. মুহাম্মদ ইউনূস সাহেব বলে প্রচার করছেন। যে লোক ৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সুদে আসলে পরিশোধ করে ছিলেন সে গরিব না ? আপনারাই বলেন সে কি গরিব ? ১৯৮৪ সালে ৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে যে পরিশোধ করেছিলেন সে গরীব না । বরং গরীব বলে প্রকৃত গরীবের সাথে প্রতারণা করেছিলেন ।

গ্রামীণ ব্যাংকের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের গ্রামীণ ব্যাংকের পরিভাষায় দৈনিক ভিত্তিক কাজের লোক নাম দিয়ে আমাদের যুব সমাজ ধ্বংস করার উদ্দেশ্য ফন্দি করে ভবিষৎ অন্ধকার করে রেখেছেন ডা. মুহাম্মদ ইউনূস ।

দীর্ঘদিন যাবত গ্রামীণ ব্যাংক আমাদের শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ শ্রম আইন ও নিজস্ব নীতিমালা উপেক্ষা করে সুদীর্ঘ সময় অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করলে ও গ্রামীন ব্যাংক আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করছে না । আমরা বিনা বিশ্রামে সাপ্তাহে ৭দিন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা কাজ করাসহ নানা ধরণের অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছি। উপরোন্ত এসব বিষয়ে প্রতিকার চাইলে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের দ্বারা ক্রমাগত হয়রানি, কারণ ছাড়াই কাজে যোগদানে বাধা প্রদান এবং ক্ষেত্রবিশেষে দূর কর্মস্থলে বদলী করা হয় ।

গ্রামীণ ব্যাংক দৈনিক ভিত্তিক পিয়ন কাম গার্ড পদে চাকুরীতে যোগদানের সময় নিয়োগ পত্রের স্থলে আমাদের শুধু অনুমতিপত্র প্রধান করা হয়। দৈনিক মাত্র ৪০০/- (চারশ টাকা ) মজুরী প্রদান করে আমাদের দিয়ে দিনে অফিসের ৪র্থ শ্রেণীর যাবতীয় কাজ ও রাতে অফিস পাহারার কাজ করানো হয়। গ্রামীণ ব্যাংক দৈনিক ভিত্তিক পিয়ন কাম গার্ড পদে চাকুরীরত সকল কর্মী বাংলাদেশের শ্রম আইনের সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উপরোক্ত আমাদের কোন নির্ধারিত কর্মঘন্টা উৎসব ভাতা সাপ্তাহিক সরকারী উৎসব ঐচ্ছিক কিংবা অসুস্থতাকালীন ছুটি নেই । এমতাবস্থায় স্থায়ী ভিত্তিক পিয়ন কাম গার্ড পদে চাকুরীরত কর্মীরা গ্রামীন ব্যাংক প্রদত্ত সকল সুবিদা পেলেও একই কাজ করে আমরা সকল সুবিধাদী হতে বঞ্চিত।

এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আমরা গত ৯ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জনাব মুজিবুল হক এমপি এবং মহাপরিদর্শক , কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর , জনাব মোঃ শামছুজ্জামান ভূইয়া বরাবর আবেদন করি। আমরা বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন ও মানব বন্ধন করেছি (সংযুক্তি-১) । এছাড়া এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ১৯/০৭/১৭ তারিখে ময়মনসিংহ কলখারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর উপ-পরিদর্শকের কার্যালয় বরাবর অনলাইন অভিযোগ (অভিযোগ নং-১৯৪১) দাখিল করেছি (সংযোক্তি-২) অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭/০৭/১৭ তারিখে অধিদপ্তর থেকে গ্রামীন ব্যাংক নেত্রকোনা যোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার বরাবর নোটিস ইস্যু করা হয়। নোটিস প্রদানের পর সমস্যার কোন সুরাহা না করে বরং অভীযোগকারীকে চাকুরীতে যোগদান করতে দেওয়া হচ্ছে না ।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দ্যেশে বলেছিলেন, এই বাংলায় ধনী-গরিব সবার এখানে সমান অধিকার । এখানে কেউ খাবে, কেউ খাবে না, তা হবে না, তা হবে না । কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সেই বাণী অমান্য করে গ্রামীন ব্যাংক কেন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে?

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য ও বঙ্গকন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় শেখ হাসিনা বলেছিলেন বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবেন। কিন্তু ড.মু.ইউনূস-এর মত কিছু সংখ্যক লোক আমাদের মত যুব সমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি আমাদের অভিভাবক হিসেবে আমরা আপনার কাছে গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা অফিসে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন কাম গার্ড হিসাবে কর্মরত তিন হাজারের বেশি কর্মীদের গ্রামীণ ব্যাংক কর্মকর্তা দ্বারা প্রতারণা ও হয়রানি বন্ধ, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী চাকুরী স্থায়ীকরণ চাই। এছাড়া আমরা শ্রম আইন অনুযায়ী কর্মঘন্টা, কর্ম পরিবেশ, মজুরী বিশ্রাম ছুটি ও বোনাসসহ অন্যান্য ও অধিকার প্রদান করতে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুেরাধ করছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমজীবী মানুষের অভিবাবক হিসেবে আমরা আপনার কাছে আমাদের ওপর হওয়া সকল অমানবিক আচরণের যথোপযুক্ত প্রতিকার দাবি করছি।”

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!