মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

কেন্দুয়ায়  প্রশ্নফাঁস চক্রের ৮ জনকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

কেন্দুয়ায়  প্রশ্নফাঁস চক্রের ৮ জনকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস প্রতারণা ও জালিয়াতি করার অভিযোগে ৮ জন শিক্ষককে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
আজ সোমবার দুপুরে নেত্রকোনা সিনিয়র জ্যুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নেত্রকোনা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোঃ শাহজাহান মিয়া আজ দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  এসময় তিনি বলেন, আমরা ৭ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলাম। আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। বাকীদের পর্যায়ক্রমে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
তাছাড়া একই অভিযোগে ওই ৮ জনসহ অজ্ঞাত ৯৭ জনের বিরুদ্ধে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইনে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৮ জন শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন। এর আগে শনিবার (২৯ জুন) কেন্দুয়া থানা পুলিশের এস.আই আবুল বাশার বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন : কেন্দুয়া উপজেলার দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মজিবুর রহমান, নওপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাওয়া বেগম, লিপা মুনালিসা, বলাইশিমুল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, কেন্দুয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাহমিনা আক্তার, মদন উপজেলার জঙ্গলটেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জেবুন্নাহার ডলি, খাগরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাকি আক্তার, ও আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক স্মৃতি খানম।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একই অপরাধে জড়িত কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাকি ও পানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তুহিন আক্তারকেও সাময়িক ভাবে বরখাস্তের আবেদন জানিয়ে উপ-পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত ২৮ জুন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেত্রকোনা জেলা সদরের বিভিন্ন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কারও কারও সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকার চুক্তি ও লেনদেন করে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে প্রতারণার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের উত্তর সরবরাহের কাজে জড়িত ছিল একটি শক্তিশালী চক্র। ওই চক্রটি কেন্দুয়া পৌর এলাকার টেঙ্গুরী ছয়আনি মহল্লার শিল্পপতি মনিরুজ্জামান শামিমের বাড়িতে বসে পরীক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের  উত্তর সরবরাহ করছিল মোবাইলের মাধ্যমে।
কেন্দুয়া থানা পুলিশ গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শিল্পপতি মনিরুজ্জামান ভূইয়া শামিমের বাড়ি ঘেরাও করে। সকাল পৌঁনে ১১টা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্থানীয় লোকজনদের সঙ্গে নিয়ে দু’তালা এ বাড়ির কক্ষে প্রবেশ করে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করে। এসময় পুলিশ ২টি ল্যাপটপ, ১টি ব্যাটারি, ২টি মডেম, ৭টি মোবাইল, ১টি চার্জার ও অন্যান্য গাইড বই সহ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল জব্দ করে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে কেন্দুয়া উপজেলা ছাড়াও নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা কাহনিয়া গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ লুৎফুর, বারহাট্টার রায়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে শ্রী চয়ন দত্ত, মাহাজনপাড়া গ্রামের ফিরোজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ শরিফ, আটপাড়া উপজেলার মঙ্গলশ্রী গ্রামের বজলুর রহমানের মেয়ে মনি আক্তার, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের হযরত আলীর ছেলে লোকমান হোসেন, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ নাজমুল ইসলাম, খোদাবক্সপুর গ্রামের জালাল উদ্দিনের মেয়ে তাসলিমা, নেত্রকোণা সদর উপজেলার উন্মেষ হাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রিপন , নেত্রকোণা সরকারি কলেজের প্রভাষক মোমেন ও নেত্রকোণা কৃষ্ণগোবিন্দ হাইস্কুলের শিক্ষক ঝন্টু জড়িত রয়েছেন।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ও ময়মনসিংহের আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৩ শিক্ষার্থী রয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে চাঞ্চল্যকর ঘটনার তথ্য উদঘাটনে প্রথম ধাপে বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান ছোটন, নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আজহারুল ইসলাম, শরিফুজ্জামান ভূইয়া মিন্টু, বড়বাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সাকি, দিগদাইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষক মজিবুর রহমান, বলাইশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মরিয়ম আক্তার, তেলিগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক স্মৃতি খানম, জঙ্গলটেঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জেবুন্নাহার ডলিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে সোমবার ১ জুলাই)  শুনানির দিন ধার্য্য করেছেন।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর আলোচিত ঘটনা। এ অপরাধে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না।

ভাল লাগলে শেয়ার করেন




© All rights reserved © 2017 jonopriya.com
Design & Developed BY jonopriya.com
error: Content is protected !!