রবিবার, ১২ জুলাই ২০২০, ০৭:৩৯ অপরাহ্ন

করোনায় রবীন্দ্র জন্মদিন, মেতে উঠেছে ভার্চুয়াল মঞ্চ

জনপ্রিয় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২০
  • ৩৩ বার পঠিত

বাঙালির মন আর জীবনজুড়ে আছে যার অপার সৃষ্টি সম্ভার, তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্যের মহীরুহ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মদিন আজ।

বাংলা ১২৬৮ সালের ২৫ বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে তার রয়েছে অসামান্য অবদান। কবিগুরুর দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ গভীর জীবনবাদী চিন্তাজাগানিয়া লেখায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে বাংলার জল, বাংলার মাটি, বাংলার ফল আর বাংলার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষ।

তিনি সারা জীবন হৃদয়ের গহিনে লালন করেছেন মানব মুক্তির দর্শন। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাসসহ সব সৃষ্টি মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, তার অন্বিষ্ট উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে থাকে।

করোনাভাইরাসের কারণে এবার ভিন্ন ভাবে পালিতি হচ্ছে করি গুরুর জম্মদিন। ধুপ ও মালা দিয়ে মণ্ডপে পুজো নেই। ভোর থেকে রাত অবধি নানা গান, কবিতা ভরা রবীন্দ্রবরণ, নতুন শাড়ি, পাঞ্জাবি থেকে বাদ পড়েছেন এ বার স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ। তবে বিস্ময়ের কারণ নেই। বাদ কেবল জমায়েতে আর মঞ্চ গানে। এবার জন্মদিন বাড়ি-গানে। যে বাড়ির নাম ‘জুম’ বা ‘গুগল প্লে’ বা স্বয়ং ফেসবুক।

এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী প্রমিতা মল্লিক বলেন, সারা বছর রবীন্দ্রচর্চা করি। এই বয়সে এসে রবীন্দ্রনাথের এই ভার্চুয়াল জন্মোৎসব আমার একেবারেই পছন্দ নয়। আজকাল ফেসবুক খুলতে ভয় লাগে। শুধু গান! যারা একেবারেই গাইতে পারেন না তারাও গাইছেন। যারা শিল্পী তারাও গাইছেন। সব মিলেমিশে একাকার। এই লকডাউন তো অনেকদিন চলবে। শেষ হলেও মঞ্চে গান শুনতে যাবে না মানুষ। ততদিনে আরও গান গাওয়া বাড়বে। ফলে পেশাদার শিল্পীদের গান টিকিট কেটে আর কেউ শুনতে যাবে? মনে হয় না!

সঙ্গীতশিল্পী স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত বলেন, যে বিষয় ঘিরে মানুষের মধ্যে ‘ক্রেজ’ বা ‘উন্মাদনা’ দেখা যায় তা চিরস্থায়ী হয় না। করোনা যেন ছলনা। মানুষ কর্মহীন। তাই চারিদিকে এই গান গাওয়ার হুজুগ। লকডাউন চলে গেলে এই হুজুগ সরে যাবে।

সঙ্গীত পরিচালক জয় সরকার বলেন, সবটাই পরিস্থিতির স্বীকার। এই ভার্চুয়াল জন্মোৎসবে রবীন্দ্রনাথের গান, নাচ বা কবিতা বলার পরিসর যেন আরও বড় হয়ে গিয়েছে। অনেকে মিলে এই যে মানুষ পার্টিসিপেট করছে এটা খুব ভাল লাগছে দেখে। মন খুলে নাচ গান করতে পারছে সবাই যে যার মতো করে। কোনও অনুষ্ঠানের ডাকের জন্য কাউকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

শ্রাবণী সেন বলেন, অনলাইন ক্লাস চলছে। পরিকল্পনা আছে ওয়ার্কশপ করার। এর মাঝে এই রবীন্দ্রজন্মোৎসব ভাল লাগছে না। লোকে বলেছে সেজেগুজে ভিডিও দিতে? করোনায় সাজ! রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালনের অধিকার সকলের আছে। তবে যে যেমন করে পারছে গান গাইতে শুরু করছে। এতে গুণগত মান থাকবে না আর। এমন সময় আসবে মানুষ আর রবীন্দ্রনাথের গান শুনতে চাইবে না!

সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য বলেন, কী যে হচ্ছে বুঝতে পারছি না। লকডাউনের যন্ত্রণা তো ছিলই! এবার করোনায় গানের যন্ত্রণা। তবে মানুষ ঘরে বসে কী বা করবে? তাই গান গাইছে, কানেক্টিভিটির জন্য। লকডাউন খুললে মানুষ যাতে শিল্পী হিসেবে তাদের মনে রাখে এই ভাবনাটাও কাজ করছে।

তিনি মনে করেন, ভার্চুয়াল আসর কখনওই মঞ্চ আসরের বিকল্প হতে পারে না। মঞ্চের গুণগত মান ভার্চুয়াল আসরে কিছুতেই পাওয়া যাবে না। তবে তিনি এক ভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছেন। যে যন্ত্রশিল্পী আর সাউন্ড নিয়ে কাজ করা মানুষেরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেন তাদের কথা ভেবেই তিনি আর জয়তী চক্রবর্তী দু’ঘণ্টা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের কথা ভেবেছেন অনলাইনে।

ইউটিউবে এক ভিন্ন ভাবনাকে প্রকাশ করছেন সুজয়প্রসাদ। জার্মানির ঔপন্যাসিক টমাস মান রবীন্দ্রনাথকে অপমান করেন। সেই অপমানের সরাসরি জবাব দেননি রবীন্দ্রনাথ। তিনি তার সৃষ্টির মধ্যে দিয়ে উত্তরণের পথ দেখিয়েছেন। জয়তী চক্রবর্তীর গানের সঙ্গে এই ভাবনা উপস্থাপন করবেন সুজয়।

আশা অডিয়োর তরফ থেকে অপেক্ষা লাহিড়ী বললেন, এই পরিস্থিতিতে চেষ্টা করছি আমরা পেড কনসার্ট করতে। কিন্তু টেকনিক্যালি মঞ্চের কোয়ালিটি ডিজিটাল মাধ্যমে নিয়ে আসা সম্ভব নয়। এই ব্যবস্থা সাময়িক।

বাংলাদেশ জার্নাল/

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102