শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

করোনার কারনে লোকসানের আশংকায় গোপালগঞ্জের খামারিরা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০
  • ১১০ বার পঠিত
করোনার কারনে লোকসানের আশংকায় গোপালগঞ্জের খামারিরা
করোনার কারনে লোকসানের আশংকায় গোপালগঞ্জের খামারিরা

প্রাকৃতিক সৌন্দয্যে ভরা সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা হালিম গাজী। বয়স প্রায় ৬৮। কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলত সংসার। গতবার অন্যোন্যের দেখাদেখি এবারের কোরবারীর ঈদকে সামনে রেখে ৬টি দেশী গরু মোটাতাজা করেছেন। বাজার থেকে ৬টি ছোট গরু কিনে ৮/১০ মাস লালন পালন করেছেন। কোন প্রকার রাসয়ানিক ওষুধ ব্যবহার না করেই জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তরে পরামর্শে সোনাখালী বিলের ঘাষের সাথে খড় আর ভূষি খাইয়ে মোটাতাজা করেছেন। ইতিমধ্যে হাটে বিক্রি করারও উপযুক্ত হয়েছে গরুগুলো।

কিন্তু এবার তার কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। করোনা ভাইরাসের কারনে গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন কি না সেই চিন্তায় নির্ঘুম রাত করছে তার। গরু বিক্রি করতে না পারলে ধার দেনা তো মিটাতেই পারেবেন না সেই সাথে সংসার চালানোও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে তার। শুধু তিনিই নয় এমন চিন্তা জেলা সাড়ে ৪ হাজার খামারী।

জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, গোপালগঞ্জের ৫ উপজেলায় রয়েছে সাড়ে ৪ হাজার খামারী। এবারের কোরবানীর ঈদকে কেন্দ্র করে লাভের আশায় গোপালগঞ্জ জেলায় ৩৪ হাজার পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। এর মধ্যে খামারের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ে ২০ হাজার গরু ও ১৪ হাজার ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করে মোটাতাজা করা হয়েছে।

শুক্রবার ট্রালারে করে প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনাখালী গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সোনাখালি গ্রামটি গড়ে উঠেছে সোনাখালি বিলের মধ্যে। নিন্ম আয়ের কৃষক পরিবারগুলো সামান্য মাটি কেটে ভিটা তৈরী করে সেখানে বসতি গড়েছেন কয়েক দশক আগে। বছরের প্রায় ৯ মাস এই গ্রামটি জলমগ্ন থাকে। শীত মৌসুমে একবার ফসল ফলে। তাই দশকের পর দশক ধরে এখানকার মানুষ গবাদী পশু পালন করে তাদের জীবিকা চালিয়ে আসছেন।

কোরবানীর পশুর চাহিদা মেটানোর জন্য গত প্রায় তিন দশক ধরে এই গ্রামবাসীরা গরু পালন করে আসছেন। গ্রামটিতে বসবাস প্রায় ৫’শ পরিবারের। সকল পরিবারই বাড়ীর আঙ্গিনায় গরু পালন করেন। ৫ থেকে ২০টি পর্যন্ত গরু পালন করেন এক একটি পরিবার। দেশী প্রজাতির এড়ে গরুর বাচ্চা অপেক্ষাকৃত কম দামে কিনে তারা সেগুলোকে পালন করেন। আর তাদের এই গরু পালনে প্রকৃতিও যেন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। বিল ভরা অবারিত প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো ঘাস কৃষকেরা গরুর খাবার হিসাবে ব্যবহার করনে। সঙ্গে সামান্য খইল ভুষি। তাতেই চার মাসে গরুগুলো রিষ্ট পুষ্ট হয়ে ওঠে।

দেশী জাতের হওয়ায় এবং হরমন ইনজেকশন ব্যবহার না করায় প্বার্শবর্তী জেলা বরিশাল ও বাগেরহাটের হাট ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন হাটেও এখানকার গরুর চাহিদা থাকলেও এবছর করোনা ভাইরাসের কারনে কোন ক্রেতাই এখন পযর্ন্ত আসেনি।

এমনকি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ও দাদন নিয়ে এসব পশু পালন করেছে খামারী। করোনার প্রভাবে দফায় দফায় পশু খাদ্যের দাম বাড়ায় এবার খমারীদের খরচও বেড়েছে দ্বিগুন। ফলে করোনা কারনে এসব গবাদি পশু বিক্রি নিয়ে সংশয়ে রয়েছে খামারীরা। ফলে কোরবানীর ঈদে শেষ পযর্ন্ত গরুগুলো বিক্রি করতে পারবেন কিনা ও লোকসানের চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে খামারিদের। পাশাপাশি ভারতীয় গরু দেশে আসার আশংকায় রয়েছেন খামারীরা। ভারতীয় গরু দেশে আসলে লোকসান গুনতে হবে খামারীদের।

সোনাখালী গ্রামের মিলন গাজী, মনিরুজ্জামান গাজী, জানান, অধিক লাভের আশায় এবার গরু মোটাতাজা করেছি। জেলা প্রানী সম্পদ অধিদপ্তর সবসময় আমাদের পাশে থাকায় এবার কোন গরু খোড়া রোগে আক্রান্ত হয়নি। বিক্রি করে লাভের আশাও করেছিলাম। কিন্তু করোনা আসায় লাভ তো দূরের কথা গরু বিক্রি করতে পারবো কি না সেই চিন্তায় রয়েছি।

বিকাশ মন্ডল, প্রভাস মন্ডল জানান, সোনাখালি গ্রামের শতভাগ পরিবার গরু পালন করে। খইল ভূসি আর বিলের ঘাস খাইয়ে আমরা গরু পালন করি। কোন রাসায়নিক, ট্যাবলেট, হরমন ইনজেকশন ব্যবহার না করার কারনে সোনাখালির গরুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু এখন পযর্ন্ত একটি গরু বিক্রি করতে পারিনি।

মো: সবুর গাজী বলেন, করোনার জন্য আমরা গরু বিক্রি করতে পারছি না। হাটবাজারও বসে নি। ভূষি কুড়ার যে দাম তাতে বাঁচতে পারতেছি না। কোরবানীতে যদি বেঁচতে না পারি তাহলে মরণ ছাড়া আমাদের গতি নাই।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা সিংকঃ ডাঃ আজিজ আল মামুন জানান, এ বছর জেলায় ৩৪ হাজার পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। কোন প্রকার ক্ষতিকারক ঔষধ ছাড়াই ঘাসের সাথে খড় ও ভূসি খাইয়ে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরু মোটাতাজা করতে কোন অপদ্রব্য ও ঔষধ ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে। এখানকার গরু দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও রপ্তানী করা যাবে।

তিনি আরো বলেন, করোনার কারনে এবছর গোপালগঞ্জের খামারিদের একটু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে হাটগুলো ঠিক ভাবে বসলে ও ভারতীয় গরু বাজারে না আসলে গোপালগঞ্জের খামারীরা লাভবান হবে।

শেয়য়ার করুন..

এ জাতীয় আরও সংবাদ




© All rights reserved © 2020 jonopriya.com
কারিগরি সহযোগিতায়-SHAHIN প্রয়োজনে:০১৭১৩৫৭৩৫০২ purbakantho
themesba-lates1749691102